Header Ads Widget

Responsive Advertisement


লালমনিরহাটে নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি: অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি


লালমনির খবর ডেক্স : লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আসা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের দুটি ট্রাক পুলিশ আটক করলেও অবশেষে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ওই পণ্যের আমদানিকারক সরকারদলীয় নেতা হওয়ার সুবাধে স্থানীয় কাষ্টম কর্তৃপক্ষ তা ছেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, রোববার রাতে হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজ টোল প্লাজার দায়িত্ত¡রত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের ( স্প্রীং পাতি) দুটি ট্রাক আটক করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে  ট্রাক দুটি হাতীবান্ধা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ওই ট্রাকে আমদানি নিষিদ্ধ মোটর পার্টস থাকলেও অবশেষে তা স্ক্রাপ (ভাংড়ি লোহা) হিসেবে দেখিয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে বুড়িমারী কাষ্টমসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তা থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দেড় কোটি টাকার ওইসব মোটর পার্টসগুলো স্থানীয় সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স সায়েদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় মোটা অংকের রফাদফায়  তা ছেড়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমসের স্থানীয় কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। আমদানি নিষিদ্ধ মোটর পার্টসগুলোকে দিনে দুপুরে স্ক্রাপ ঘোষণা করায় ওইসব কাষ্টমস কর্মকর্তার মিথ্যচারে শুধু স্থানীয় সিএন্ডএফ এজেন্ড ব্যবসায়ীরই নন হতবাক থানা পুলিশও।
বুড়িমারী স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দরের ‘মেসার্স সায়েদ এন্টারপ্রাইজ’ সিএন্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সের মাধ্যমে ০৪ মে যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সোবাহান ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাসট্রিজ লিমিটেডের মালিক ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখায় ৩০ মেট্্িরক টন ভারতীয় ওয়েস্ট এন্ড স্ক্রাপ বা ভাংড়ি লোহার আমদানির এলসি খোলেন। যাহার এলসি নম্বর ০৮৮৬১৪০১০২৭৭/৯০১৮৭। কিন্তু উলে­খিত এলসির বিপরীতে মিথ্যা ঘোষনার মাধ্যমে বুড়িমারী স্থলবন্দরে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও আব্বাস উদ্দিন খাঁন কাষ্টমসের রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গত রোববার ভারতীয় ডবিøউ বি ২৩সি২০৯৮ (দশ চাকা) একটি ট্রাকে করে আমদানি নিষিদ্ধ প্রায় ৩৮ মেট্্িরকটন ভারতীয় মোটর পার্টস(¯প্রীং পাতি) নিয়ে আসে। এতে মোটর পার্টস(স্প্রীং পাতির) হিসেবে আমদানিকরা ওই নিষিদ্ধ পণ্যে প্রায় ৫০ লাখ ৭৩ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অথচ ওইসব আমাদানি নিষিদ্ধ পণ্যকে স্ক্রাপ দেখিয়ে নামমাত্র ৮ লাখ ৩৯ হাজার ২১১ টাকা রাজস্ব প্রদান করা হয়েছে বলে পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংক শাখা সুত্রে জানা গেছে। গত ৩ মে পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংকে ১০-১৩ নম্বর ট্রেজারি চালানের মধ্যে ওই রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে বলে বুড়িমারী কাষ্টমস সুত্র জানিয়েছে।
গতকাল হাতীবান্ধা থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের হাতে আটক ভারতীয় মোটর পার্টস (স্প্রীং পাতি) পণ্যবাহী (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৫১৮৪ ও টাঙ্গাইল ট-০২-০৬৪১) ট্রাক দুটি থানা চত্তরে রাখা হয়েছে। এসময় ট্রাক দুটি ছাড়িয়ে নিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও ওইসব পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিএন্ডএফ এজেন্ট সায়েদুজ্জামান সায়েদ কাষ্টমসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও আব্বাস উদ্দিন খানকে নিয়ে থানায় আসেন। এসময় ওই দুই রাজস্ব কর্মকর্তা কাষ্টমসের রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মুজিবের রহমানের নির্দেশে জব্দকৃত পণ্যগুলোকে স্ক্রাপ দাবি করে ট্রাক দুটোসহ আটককৃত ছয় ব্যাক্তিকে ছড়িয়ে নিয়ে যান। এদিকে ট্রাক দুটিতে থাকা পণ্যগুলো মোটর পার্টস (স্প্রীং পাতি) হলেও সেগুলোকে স্ক্রাপ দাবি করে কেন ছাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর মেলেনি ওই দুই রাজস্ব কর্মকর্তার কাছ থেকে।
তবে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওইসব পণ্য স্ক্রাপ বা মোটর পার্টস কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে কাষ্টমস কর্মকর্তারা লিখিত প্রত্যায়ন দিলে জব্দকৃত ট্রাক দুটি মালামালসহ আটক ব্যক্তিতের ছেড়ে দেয়া হয়।

Post a Comment

0 Comments