লালমনিরহাট্ প্রতিনিধিঃ
অদ্যম মেধাবী নিরঞ্জন রায় কৃষি শ্রমিকের কাজ করেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ গৌরবময় ফলে মা, ভাইবোন, গ্রামবাসী ও স্বজনরা আনন্দে মেতে থাকলেও সে নিজে পড়েছে দুঃচিন্তায়।
কারণ একটি এনজিও থেকে মায়ের নামে ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিল। প্রাইভেট, টিউশন ফি ও নতুন কিছু বইপত্র কিনেছিল।
পরীক্ষার পর অবসর সময়ের ৩ মাসে দিনমজুরীর কাজ করে মায়ের নামের ঋণের ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে । এখনও বাকি ৩ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ফল প্রকাশ হয়েছে। এখন সামনে কলেজে ভর্তি, নতুন বইপত্র কেনা ও পোষাক কিনতে কয়েক হাজার টাকার প্রয়োজন। যা দিনমজুরী করে রোজগার করা সম্ভব নয়। তার ওপর ঋণ পরিশোধ করা তো অসম্ভব।
অর্থ সংকটে অজানা আতঙ্কে পড়েছে এই মেধাবী নিরঞ্জন। তাহলে কী এখানেই থেমে যাবে তার শিক্ষা জীবন। এই চিন্তায় সব সময় মন মরা হয়ে থাকে। তবে লড়াই থেমে রাখেনি। দিন রাত্রি ধান কাটা ও মাড়াইয়ের চুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সে। যেকোন মূল্যে মায়ের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। জোগাড় করতে হবে কলেজে ভর্তির ফি, নতুন বই কেনার অর্থ ও পোষাক পরিচ্ছেদ কেনার টাকা।
জেলা শহর থেকে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদাল খাতা গ্রামের মৃত উপেন্দ্র নাথ রায় এর তৃতীয় সন্তান নিরঞ্জন। গ্রামে বাড়ি বলতে বাপ দাদার পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া ছোট ছোট টিনের পুরান দু’টি ঘর। জমি পেয়েছে বসত ভিটার কয়েক শতাংশ । ঘরের টিনের চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। এই বাড়িতেই বিধবা মা, দর্জিশ্রমিক বড় ভাই ও ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী এক ছোট বোনকে নিয়ে নিরঞ্জনের বসবাস। সবার বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মেধাবী নিরঞ্জন তৃতীয়।
ভাটিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম রসুল মন্ডল জানান, ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকেই নিরঞ্জন মেধাবী ও বিদ্যালয়ে বিনয়ী ছাত্র হিসেবে সকলের প্রিয়।
নিরঞ্জনের বিধবা মা কিরণবালা ছেলের সাফল্যে আনন্দিত। তবে লেখাপড়া কিভাবে হবে সেই চিন্তা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। অর্থ সংগ্রহ করতে এই বৃদ্ধ বয়সেও অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে তাকে। তবুও চান তার ছেলে পড়াশুনা করে প্রতিষ্ঠা পাক


0 Comments
Thanks for your comments