Header Ads Widget

Responsive Advertisement

লালমনিরহাট এখন জুয়ার অভয়ারন্য

লালমনিরহাটঃ সীমান্তর্তী লালমনিরহাটে দিন দিন বেড়েই চলছে জুয়াড়িদের দৌরাত্ম। জেলার প্রতিটি গ্রামে চলছে চোখে পড়ার মত জুয়ার আসর। রাতে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে তাবু টানিয়ে হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে দিব্বি চলছে কোটি কোটি টাকার জুয়ার আসর।
রমরমা এসব জুয়ার আসরে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন স্থান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে জুয়ারীরা এসব স্থানে আতির্থ গ্রহন করছে।  জুয়া আসরের এমন দৃশ্য দেখে হয় লালমনিরহাট যেন জুয়ার অভয়ারন্য। সব কিছু জানার পরও অদৃশ্য কারনে না দেখার ভাঁন করছে থানা পুলিশ। প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল এখানে যোগদানের পর থেকেই মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও কতিপয় অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার বির্তকিত ভূমিকার কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার বড়বাড়ীর কলেজের পিছনে বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে, মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর বাজারের পূর্ব পার্শ্বে পুকুরের পাড়, এই আসরটির নেতৃত্ব দেয় জুয়াড়ি লাবলু। এছাড়াও খুনিয়াগাছের তিস্তা নদীর পারে আবুজার বিডিআর নামে বিডিআর অবসর প্রাপ্ত একজন সদস্য দীর্ঘদিন থেকে জুয়া সহ নগ্ন নিত্য চালিয়ে যাচ্ছে, এছাড়াও মোস্তফিরহাট-রাজারহাট সীমান্ত এলাকার সুলতান নগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর কালীবাড়ী ব্রীজের পশ্চিমে পল্লী চিকিৎসক লাল মিয়া ও রওশনের বাড়ীর পশ্চিমে বাঁশঝারের পিছনে জুয়া খেলা চলছে। এখানে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় যুবলীগ নেতা লাল মিয়া ও নজরুল ইসলাম ওরফে নজু নেতৃত্বে প্রতিরাতে জুয়ার আসর বসে।

স্থানীয় থানা পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করার পরেও জুয়া বন্ধ হয়নি। ওইসব জুয়ার আসরে দূর-দূরান্ত থেকে জুয়ারীরা মাইক্রো ও মিনি বাস নিয়ে আসে জুয়া খেলার জন্য। এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে একইভাবে জুয়া খেলা চলছে।

একাধিক ব্যক্তি জানায়, পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন এসব জুয়া খেলা হচ্ছে। ফলে জুয়ারীরা কোন প্রকার ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে জুয়া খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। জুয়া খেলার পাশাপাশি মদ, ফেন্সিডিল ব্যবস্থা থাকায় এখানে এসে ভীর করে উঠতি বয়সের স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা। এক পর্যায়ে এভাবে তারাও জুয়া খেলাতে মেতে উঠে।

ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই বেড়েই চলছে। জুয়া খেলার নিয়ন্ত্রণ ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। এব্যাপারে জুয়ারীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা নিয়মিত থানা-পুলিশকে টাকা দিয়ে জুয়া খেলি। পত্রিকায় যা খুশি লিখেন। আমাদের কিছু বলার নেই।
আলোকিত লালমনিরহাট গঠনে ১৩টি অপরাধ নিমূলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জুয়া ও মাদক নির্মূল। কিন্তু বর্তমানে এ দুটি অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ফলে এক সময়ের আলোকিত লালমনিরহাট এখন দিনদিন জুয়ার নগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এ বিষয়ে সচেতন মহল প্রশানের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments