টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় লালমনিরহাটের পানিবন্দি পরিবার গুলোর মাঝে অবশেষে সরকারী ভাবে ত্রান বিতরন শুরু হয়েছে। জেলা ত্রান ও পনর্বাসন মন্ত্রনালয় বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ত্রান বিতরন করেন। জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয় জানায়, কয়েক দিনের ভারি বর্ষন ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তাসহ জেলার সব গুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পানিবন্দি পরিবার গুলোর মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ ৭৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার যেমন চিড়া, মুড়ি, লবন, চিনি, চাল, মোমবাতি, দিয়াশলাই ও পানি বিশুদ্ধকরন ঔষধ বিতরন করা হয়। এছাড়াও সরকারের জিআর প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার পরিবারের জন্য মাথাপিচু ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। জিআর বরাদ্দের এসব চালও বিতরন করা হচ্ছে।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী তিস্তার তীরবর্তী আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পানিবন্দি পরিবার গুলোর মধ্যে এসব ত্রান বিতরন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, আদিতমারী উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান, মহিষখোচা ইউনিয়ন আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিছার রহমান প্রমূখ। ত্রান পেয়ে গোবর্ধন চরের পরিবার গুলো সাংবাদিকদের জানায়, সকাল থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও বাড়িতে রান্না করার পরিবেশ নেই। এ কারনে অনেকেই পাশের উচু স্থানে সেরে নিচ্ছেন তাদের রান্নার কাজ। বন্যার পানি কমে গেলেও এখনও তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে নৌকা বা কলা গাছের ভেলায় করে।
ত্রান বিতরনকালে ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবার গুলোর জন্য মাথাপিচু ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরন করা হচ্ছে। এছাড়াও অধিক ক্ষতিগ্রস্থ ৭৫০ পরিবারের জন্য চালসহ শুকনা খাবারও দেয়া হচ্ছে।

0 Comments
Thanks for your comments