রাইসুল ইসলাম সেনা, স্টাফ রিপোর্টার ॥
মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর, ভাতা খায় শহিদুর। ভারতীয় তালিকা নম্বর জাল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর, ভাতা খায় শহিদুর। ভারতীয় তালিকা নম্বর জাল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের ভারতীয় তালিকা নম্বর ৪২৭৩৪ ব্যবহার করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাহিদুর রহমান ওরপে শহিদুর রহমান ওরফে সহিদার রহমান। ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য নিজের ভোটার আইডি কার্ড একবার পরিবর্তন করে সহিদুর থেকে শহিদুর হন পরে তিনি নিজেকে শহিদুর রহমান থেকে সহিদার রহমান সাইদুর পরিবর্তন করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তার পরেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে সাইদুর রহমানের ভারতীয় তালিকার নম্বরটি ব্যবহার করে ২০০৫ সালে তার নামে গেজেট প্রকাশ করে নিয়ে আসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা শাখার কতিপয় অসাধু মুক্তিযোদ্ধার সহায়তায় তিনি ওই নম্বরটি ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অধরায় পরে আছে। অথচ অন্য একজন নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সেজে অবৈধভাবে গ্রহন করছে সরকারী সুযোগ সুবিধা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ছাদেকনগর পাঙ্গা এলাকার মৃত শহর উদ্দিনের ছেলে মোঃ শহিদুর রহমান। সে নিজেকে মোঃ সাইদুর রহমান সেজে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাইদুর রহমান গরীব, দুঃস্থ, অসহায় ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে অভাবের কারনে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে ৩০ বছর জীবিকা নির্বাহ করেছিল। বর্তমান তিনি একজন নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে স্থানীয় একটি স্কুলে। কারন তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক প্রনিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ফরম পূরন করিতে না পারা। এরই ফাঁকে সু-চতুর মোঃ শহিদুর রহমান এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে নিজের প্রকৃত নাম গোপন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আত্ম প্রকাশ করে। অথচ ১৯৮৩ সালে যখন তার বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকুরী হয় তখন তার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী হবার কথা ছিল। কিন্তু তা তিনি কেন করেনি তা বোধগম্য নয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ৩০ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ৩৫৩ নং ক্রমিকে মোঃ সাহিদার রহমান পিতাঃ মৃত সাহার উদ্দিন ভূয়া জালিয়াতী ও প্রতারনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সেজে সম্মানী ভাতার সরকারী টাকা দুর্নীতিবাজ নামধারী ভূয়া ওই শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক ১৯৭১ইং সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা স্মরন করিয়ে ওই প্রতারক শহিদুর রহমান কর্তৃক রাষ্ট্রের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানকে। লালমনিরহাট জেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম নতুন করে প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানান অভিযোগকারী মোঃ সাইদুর রহমান। অপরদিকে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে গত ৭ জানুয়ারি সাংবাদিকদের নিকট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট কল্যান বিভাগ যার পত্র নং ৪৮.০১.০০০.৪০৬.১৮.০২০.১৬/২২৮৩ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্বারক নং মু-জা/ ২৮ - ১৬/২৪০০, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল স্বারকনং মুক্তি / প্রত্যয়ন / ৯০২৭ / ১৬ এছাড়া বাংলাদেশ গেজেট এ ৩৫৩ ক্রমিকে তার নাম প্রকাশ হলেও অদ্যবধি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি জোটেনি তার ভাগ্যে। শেষ বয়সে এসে একটি প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীর চাকুরী করে অতিকষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ছেলে মেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও সরকারী সুযোগ সুবিধা মেলেনি তার ভাগ্যে। তিনি মৃত্যুকে বাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে দেশ স্বাধীন করেছেন। বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান মোঃ সাইদুর রহমান। ইতোমধ্যে তিনি শহিদুর রহমান নামের ওই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে উপ-পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর অঞ্চল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিল বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। যাহার অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরেও প্রেরণ করা হয়েছে। জীবনের ৮০ বছর পেরিয়ে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে এসে যদি বাবার মুক্তিযোদ্ধার নামটি তালিকাভূক্ত হয় তাহলে হয়তো বাবা মরেও শান্তি পাবেন জানালেন মুক্তিযোদ্ধার পুত্র ফল ব্যবসায়ী হাসানুর রহমান। সচেতন মহলের দাবী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম তদন্ত সাপে¬¬ক্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তালিকা ভূক্ত হোক এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার শাস্তি দাবী করেন। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে সদুত্তোর না দিয়ে বলেন, আমার যা বলার আমি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রিয় কমান্ডকে বলবো।

0 Comments
Thanks for your comments