জিন্নাতুল
ইসলাম জিন্না,
লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা
উপজেলায় অবস্থিত
দেশের সর্ব
বৃহৎ সেচ
প্রকল্প তিস্তা
ব্যারেজকে এখন আর আশির্বাদ নয়,
অভিশাপ হিসেবেই
দেখছেন এলাকার
মানুষ।
এলাকাবাসীর
মতে এ
প্রকল্পের কারনে অত্র এলাকার কৃষকরা
লাভের চেয়ে
ক্ষতি বেশী
হয়েছেন। প্রতি
বছর বর্ষা
মৌসুমে নদী
গর্ভে চলে
যাচ্ছে একরের
পর একর
আবাদী জমি।
ফলে দিন
দিন কমে
যাচ্ছে আবাদী
জমির পরিমান।
এ তিস্তার
কারনে ইতিমধ্যে
অনেক কৃষক
তাদের পুর্ব
পুরুষের শেষ
সম্বল বসত
ভিটা হারিয়ে
দিশেহারা হয়ে
পরেছেন। তাদেও
অনেকেই কৃষক
থেকে বর্তমানে
জেলেতে পরিণত
হয়েছে। যারা
সারদিন ওই
তিস্তা নদীতে
মাছ ধরে
তা বিক্রি
করে চালাচ্ছে
তাদের সংসার।
তিস্তা ব্যারেজের কারনে
ক্ষোভে ওই
উপজেলার গুড্ডিমারী
ইউনিয়নের এক
কৃষক জানান,
এই জেলার
৪৫টি ইউনিয়নের
মধ্যে ১৬টি
ইউনিয়নের উপর
দিয়ে প্রবাহিত
হয়েছে তিস্তা
নদী। অবশিষ্ট
২৯টি ইউনিয়নের
আবাদী জমিতে
তিস্তার পানি
পাওয়া যায়না।
বিশেষ করে
হাতিবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে
৬টি ইউনিয়নের
উপর দিয়ে
প্রবাহিত হয়েছে
তিস্তা নদী।
ইউনয়ন গুলো
হলো, সানিয়াজান,
গুড্ডিমারী, সিন্দুর্না, শিংগীমারী, পাটিকাপাড়া ও
ডাউয়াবাড়ী। বাকী ৬টি ইউনিয়নের যেসব
আবাদী জমি
রয়েছে সেগুলোতে
ভাল কোন
ফসল হয়
না এবং
বর্ষা মৌসুমে
এসব আবাদী
জমি সম্পুর্ন
পানির নিচে
তলিয়ে যায়।
একারনে এসব
এলাকা চর
ও ধু
ধু বালিচরে
পরিনত হয়েছে।
ফলে ওইসব
জমিতে ভুট্টা,
শশা ও
বাদাম ছাড়া
অন্য কোন
ফসল আবাদ
হয় না।
তিস্তা নদীর কারনে
মানচিত্র থেকে
লালমনিরহাট জেলার নাম প্রায় মুছে
যেতে বসেছে।
বিশেষ করে
বর্ষা মৌসুমে
হাতিবান্ধা উপজেলার আয়তন ছোট হয়ে
যায়। অব্যাহত
নদী ভাঙ্গনে
হাতিবান্ধাসহ জেলার অধিকাংশ জমি এখন
তিস্তার পেটে।
ফলে এ
জেলার অনেক
মানুষ বর্তমানে
মানবেতর জীবন
যাপন করছে।
এক সময়
যাদের অনেক
সহায় সম্পত্তি
ছিল।
হাতিবান্ধা
উপজেলার একাধিক
ব্যাক্তি জানান,
লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজ
হওয়া সত্বেও
এ জেলার
কৃষকের কোন
কাজে আসছে
না। অথচ
প্রকল্পের জমানো পানি থেকে সেচ
সুবিধা পাচ্ছে
উত্তারাঞ্চলের জেলা গুলো। প্রতি বছর
বর্ষা মৌসুমে
যে হারে
নদী ভাঙ্গন
হয় তাতে
এক সময়
হয়তো মানচিত্র
থেকে হাতিবান্ধা
উপজেলার নাম
মুছে যাবে।
অথচ সেদিকে
সরকারের কোন
দৃষ্টি নেই।
ভাঙ্গন রোধে
দ্রুত ব্যবস্থা
নেয়ার জন্য
এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর
দাবী করেছেন।
হিমালয়ের চিতামু হৃদ
থেকে উৎপত্তি
তিস্তা নদীর।
ভারতের সিকিম
ও পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্যের উপর
দিয়ে প্রবাহিত
হয়ে নীলফামারী
জেলার খড়িবাড়ি
সীমান্ত দিয়ে
বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী।
লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা
জেলার উপর
দিয়ে প্রবাহিত
হয়ে ব্রক্ষপুত্র
নদীর সঙ্গে
মিশেছে নদীটি।
নদীটির আসল
নাম ত্রি-স্রোতা হলেও
বর্তমানে লোক
মুখে এটি
তিস্তা নামেই
পরিচিত।
এক সময় সেচের
অভাবে উত্তারাঞ্চলের
বহু আবাদী
জমি পরিত্যাক্ত
ছিল। এসব
পরিত্যাক্ত জমি সেচের মাধ্যমে আবাদেও
উপযোগী করা
লক্ষে ১৯৩৭
সালে ব্যারেজ
প্রকল্পের পরিকল্পনা হয়। ১৯৭৯ সালে
তৎকালীন সরকার
প্রধান শহীদ
জিয়াউর রহমান
লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা গুড্ডিমারী
ইউনিয়নে তিস্তা
ব্যারেজর কাজ
শুরু করেন
এবং কাজ
শেষ হয়
১৯৯০ সালে।
৫২টি গেট
সমৃদ্ধ ব্যারেজটির
দৈর্ঘ ৬১৫
মিটার। তিস্তা
ব্যারেজের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, বগুড়া,
জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা,
দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাও জেলার
১লক্ষ ২৬
হাজার অনাবাদী
জমি সেচ
সুবিধার আওতায়
আনা হয়।
ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের
সহকারী পরিচালক
(নিরাপত্তা) হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান,
তিস্তা ব্যারেজ
লালমনিরহাটের কৃষকের কোন কাজে না
এলেও পরোক্ষভাবে
উপকৃত হচ্ছেন
এ জেলার
মানুষ। যোগাযোগ
ব্যবস্থার উন্নয়নসহ এই জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে
তিস্তা ব্যারেজের
ভুমিকা অপরিসীম।
আশির দশকে
লালমনিরহাটের অবস্থা ছিল করুন। তিস্তা
ব্যারেজ হওয়ার
পর বর্তমানে
এ জেলার
ব্যাপক উন্নয়ন
হয়েছে। এই
ব্যারেজের কারনেই বুড়িমারী স্থলবন্দর পূর্নাঙ্গ
রূপ পেয়েছে।
সেই সঙ্গে
ঢাকার সাথে
সরাসরি যোগাযোগ
সৃষ্টি হয়েছে।
তিস্তা ব্যারেজের
ফলে লালমনিরহাটেও
আমূল পরিবর্তন
হয়েছে। ব্যবসা
বানিজ্যের প্রসার ঘটেছে বলেও তিনি
জানান। তিনি
আরও বলেন,
লালমনিরহাটের জমি উচু হওয়ায় এ
এলাকার কৃষক
তিস্তা ব্যারেজের
পানি ব্যবহার
করতে পারছেন
না। অন্যান্য
জেলার জমি
নিচু হওয়ায়
তাদের পানি
দিতে সহজ
হচ্ছে। তাদের
এ পানি
নিতে কোন
খরচও হচ্ছে
না।


0 Comments
Thanks for your comments