Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বন্যা কবলিত ৩ হাজার ভারতীয় মানুষ বাংলাদেশে

লালমনির খবর ডেক্স ॥ বন্যার তীব্রতাকে হারিয়ে মানবতার জয় হল এবার। সেখানে বাধা হতে পারেনি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াও। ভারতে প্রবল বন্যার কারণে দিশেহারা অনেক মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে শনিবার মধ্যরাত থেকে আসতে থাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, তখন রাত জেগে সাত-পাচঁ না ভেবে প্রতিবেশী দেশের অসহায় মানুষগুলোকে নদীর বুক থেকে উদ্ধার করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশের মানুষজন। আর এভাবেই প্রতিবেশী দেশের বিপদাপন্ন মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয় দিয়ে মানবতার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লালমনিরহাটের মোঘলহাট সীমান্তের মানুষ। এতে করে বাংলাদেশের মানুষের এমন মহানুভবতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভারতের মানুষ। এ ব্যাপারে সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

গত সোমবার কুচবিহারে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘দূন্দিনে আমাদের গ্রামবাসীকে আশ্রয় প্রদান করায় ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে ধন্যবাদ। এই ঋণ কোনভাবেই শোধ হবার নয়।’
এদিকে মঙ্গলবার সরেজমিন সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম চওড়াটারীতে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশীদের ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছেন ভারতীয় শত শত পুরুষ মহিলা। তাদের সাথে শিশু সন্তানসহ গবাদি পশুও রয়েছে।

এসময় একাধিক ভারতীয় নাগরিকের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, শনিবার মধ্য রাতে তাদের জারিধরলা নদী উত্তাল হয়ে উঠে। এ সময় অনেক গবাদি পশু পানিতে ভেসে যায়। তারা জীবন বাঁচাতে কোন কিছু না ভেবে ভেলা ও নৌকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে আশ্রয় নেয়। সেই রাতে অনেককেই স্থানীয় মোঘলহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়াও সেখানে স্থান সংকুলান হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের সবারই বাড়িতে আশ্রয় দেন অসহায় ভারতীয় নাগরিকদের। এ বিষয়ে ভারতের কুচবিহার জেলার জারিধরলা গ্রামের আব্দুর রহিমের বৃদ্ধা স্ত্রী ফিরোজা বেগম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে আশ্রয় না দিলে তারা পানিতে মরে ভেসে যেতেন।’

তিনি এসময় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, তাদেরকে যারা আশ্রয় দিয়েছে তারাও গরীব মানুষ। কিন্তু অনেক কষ্ট হলেও তাদের তিন বেলা খাবার খেতে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের নগরটারীর হায়তুননেছা নামের অপর এক বৃদ্ধা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘তিনিসহ পরিবারের অপর ৩ মহিলা সদস্য আশ্রয় নিলেও বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে থেকে গেছেন পুরুষ সদস্যরা।’

বাংলাদেশ থেকে তাদের নদী পথে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে অনেক কষ্ট করে। এসময় ভারতীয় এক বৃদ্ধ আব্দুর রহীম বলেন, ‘সীমান্ত পার্শ্ববর্তী ৪টি ভারতীয় গ্রাম জারিধরলা, দরিবোস, বাদুর কুটি ও নগড়টারী গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।’

বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতার কারণেই আজ তারা সুস্থ্ও স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে আছেন। এ বিষয়ে মোঘলহাট ইউনিয়নের চওড়াটারী গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতা করতে পেরে তাদের ভাল লাগছে।

তিনি আরও বলেন, ৭১ সালেও ভারত যুদ্ধপীড়িত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের আশ্রয় দিয়েছিল। এটাই মানবতা। এ বিষয়ে মোঘলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যায় নাকাল হয়ে অনেক ভারতীয় নাগরিক শনিবার থেকে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকে চলেও গেছে।


Post a Comment

0 Comments